images

ফ্রিল্যান্স টু সাকসেস (পর্ব: 01 – Upwork Proposal That Wins Jobs)


ফ্রিল্যান্স কাজের মার্কেটপ্লেস হিসেবে “আপওয়ার্ক” একটি জনপ্রিয় ওয়েব সাইট কিন্তু নতুন ফ্রিল্যান্সারদের জন্য আপওয়ার্কে কাজ পাওয়া একটু কঠিন। তবে আপনি নতুন হলেও জবে বিড করার ক্ষেত্রে কিছু বিষয়ের উপর যদি যথাযথ ভাবে গুরুত্ব প্রদান করেন আর সেই অনুযায়ী জবে বিড করেন তাহলে আপনি নিশ্চিত থাকতে পারেন যে, নতুন অবস্থায়ও আপওয়ার্কে কাজ পাওয়া বেশি কঠিন হবে না।

তো আসুন দেখে নিই আপওয়ার্কে সফলতার সাথে বিড করে কাজ নেয়ার জন্য আমাদের কি কি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে।

প্রায় সকল নতুন ফ্রিল্যান্সারই আপওয়ার্কে কাজ পাওয়ার জন্য বিড শুরু করতে কোন একটি বা কখনো কখনোে একাধিক টেমপ্লেট ব্যাবহার করে থাকেন। টেমপ্লেট বলতে রেডিমেট জব প্রোপোজাল। গুগলে সার্স করলে এমন অনেক প্রোপোজাল পাওয়া যায়। এগুলোকে একটু কাসটোমাইজ করে-ই জবে বিড করে থাকেন তারা। কিন্তু এতে যে, রেডিমেট টেমপ্লেট ব্যাবহার করা হয়েছে তার মূল ধারনার তেমন একটা পরিবর্তন হয় না। ফলে এ ধরনের প্রোপোজাল থেকে কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা কম।

রেডিমেট টেমপ্লেট ব্যাহারের সুবিধা:
তবে রেডিমেট টেমপ্লেট ব্যাবহারের কিছু সুবিধাও কিন্তু আছে, যেমন: জবে বিড করার ক্ষেত্রে সময় খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। তাই রেডিমেট টেমপ্লেট ব্যাবহার করে বিড করলে অনেক দ্রুত বিড করা যায়। যেহেতু একই টেমপ্লেট বার বার ব্যাবহার করা যায় তাই এর আরো কিছু সুবিধা আছে।

>> যখন কোন টেমপ্লেট ভাল কাজ করে তখন সেটা বার বার ব্যাবহার করা যায় এবং অল্প কিছু বিষয় কাস্টমাইজ করে একটি নির্দিষ্ট স্কিল এর জন্য প্রায় সব জবে এপ্লাই করার জন্য এটা ব্যাবহার করা যায়। যখন এটি ভাল কাজ করবে তখন পরির্তন করার তো দরকার নাই। তাই না?

>> আপনার হাতে সময় কম থাকলেও এ ধরনের টেমপ্লেট ব্যাবহার করে খুব দ্রুত জবে বিড করতে পারবেন। কারন অনেক সময় দেখা যায় কিছু কিছু ক্লায়েন্ট জব পোষ্ট করার 10-15 মিনিটের মধ্যেই কাউকে হায়ার করে ফেলে। আবার অনেক ক্লায়েন্ট প্রথম 4-5 টা এপ্লিকেশন থেকেই তার কাজের জন্য ফ্রিল্যান্সার বেছে নেয়। তাই দ্রুত বিড করাটা কাজ পাওয়ার পূর্ব শর্তও বলা যেতে পারে।

রেডিমেট টেমপ্লেট ব্যাহারের অসুবিধা:
এ ধরনের টেমপ্লেট ব্যাবহার করে জবে বিড করার কিছু অসুবিধাও আছে যেমন:
>> যদি আপনার টেমপ্লেটটি প্রত্যেকটা জবে এপ্লাই করার সময় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো কাস্টমাইজ না করেন তাহলে আপনি কাজটি পাবেন না।

screenshot_288

>> আবার আপনার কাছে যখন একটি রেডিমেট টেমপ্লেট থাকবে তখন হয়ত গুরুত্ব সহকারে জবের বিস্তারিত বর্ণনা আপনি পড়বেন না। আর না পরেই শুধু জবের শিরোনাম আর সামান্য কিছু বিষয় পরেই রেডিমেট টেমপ্লেটটি কপি করে পেষ্ট করে দিয়ে বিড করে ফেললেন। এতেও কিন্তু আপনি কাজ পাবেন না।

তবে আরো একটি বিষয় বলে রাখা ভাল যে, আপনি ঐ সকল জবে কখনোই বিড করবেন না যে কাজ আপনার প্রফাইলের সাথে মিলে না বা আপনি কাজের রিকয়ারমেন্ট ভাল ভাবে বোঝেন নি। কারন কাজ নেয়া মানে হচ্ছে, প্রজেক্টটি কেবল শুরু হলো। বিন্তু লক্ষ্য হচ্ছে সফলতার সাথে কাজটি শেষ কর। তাই আপনি যদি কাজটি ভাল ভাবে শেষ না করতে পারেন তাহলে টাকাও পাবেন না আর টাকা পেলেও সাথে খারাপ ফিডব্যাক পাবেন যা আপনার আপওয়ার্ক প্রফাইলের সাথে সারা জীবন থেকে যাবে এবং পরর্তী কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা কমিয়ে দেবে।

Upwork ও Fiverr এর বিভিন্ন টিপস্ ট্রিকস নিয়ে ধারাবাহিক পোষ্ট ও ভিডিও পেতে ফেসবুকের এই Group এ জয়েন করতে পারেন। আশা করছি আপনাকে ফ্রিল্যান্সিং এ সফল হতে কিছুটা হলেও সাহায্য করতে পারবো। Group এ জয়েন করতে এখানে ক্লিক করুন। ]

 

এখন প্রশ্ন হলো একটি ভাল প্রোপোজাল লিখতে কোন কোন বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে হবে?
আমি ব্যাক্তিগত ভাবে প্রায় 7-8 টি টেমপ্লেট পরিক্ষা করে দেখেছি এবং এগুলোর মধ্যে থেকে 2 টি টেমপ্লেট আছে যা চমৎকার ভাবে কাজ করছে। এবং একটি সম্পূর্ণ নতুন আপওয়ার্ক প্রফাইলে প্রথম আট দিনে প্রায় 600 ডলারের কাজ নিয়েছি আমি।

screenshot_290

ওই টেমপ্লেট দিয়ে জবে এপ্লাই করে প্রায় প্রতি 10 টা বিড থেকে প্রায় 4-5 টা ক্লায়েন্ট ইন্টারভিউ এর জন্য রিপ্লাই দেয়।

এখানে ওই টেমপ্লেট এর পাঁচটা মূল বিষয় যা জব পাওয়ার জন্য আপনিও অনুসরণ করতে পারেন।

1. জব প্রোপোজাল যতটা সম্ভব ছোট রাখতে হবে:
আমার পথম দিকের প্রোপোজালগুলো ছিল অনেক বড় কারন আমি সেখানে আমার বিষয়ে ও কাজ সম্পর্কে সবকিছুই উল্লেখ করতাম। আর তার ফলাফল হয়তো এখন আপনিও বুঝতে পারছেন। আসলে অনেক লম্বা প্রোপোজাল বেশিরভাগ ক্লায়েন্ট-ই পড়তে চায় না। ফলে কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।

2. ক্লায়েন্ট এর মনোযোগ আকর্ষনের চেষ্টা করুন:
আপনার ক্লায়েন্ট এর মনোযোগ আকর্ষন করার জন্য আপনার হাতে সময় মাত্র কয়েক সেকেন্ড। কারন, সে হয়তো অন্য আরো কাউকে মেসেজ দিবে বলে ঠিক করেছে। তাই আপনার প্রোপোজাল খোলার মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই তার মনোযোগ আকর্ষন করতে হবে। তো এক্ষেত্রে আমি যে পদ্ধতি অবলম্বন করে থাকি তা হলো:

জবে বিড করার পূর্বে খুব দ্রুত ক্লায়েন্ট এর আপওয়ার্ক প্রফাইলে তার পূর্বের রেকর্ড দেখে নিই এবং সেখানে যদি অন্য ফ্রিল্যান্সার তার ফিডব্যাকে ওই ক্লায়েন্টের নাম উল্লেখ করে তাহলে আমি প্রোপোজালের শুরুতে-ই তার নাম লিখে সম্মোধন করি। এতে কালায়েন্ট আকৃষ্ট হয় এবং ভাবে যে, আমি তার নাম কিভাবে জানলাম? এতে সে আমার প্রফাইল চেক করে দেখে যে, সে আগে আমাকে কখনো হায়ার করেছিল কিনা।

সে আরো ভাবে যে, আমি তার ব্যাপারে বেশ সতর্ক তাহলে তার কাজ করার ব্যাপারেও নিশ্চই সতর্ক থাকবো। এটা আরো প্রমান করে যে, আমি সত্যিকার ভাবেই এই কাজে পেশাজীবি আর এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

3. প্রোপোজালের শুরুর দিকে-ই কাজের Sample যোগ করুন:
প্রোপোজাল লেখার যতটা সম্ভব শুরুর দিকেই আপনার কাজের Sample যোগ করে দিন। যদি আপনার Sample গুলো ভাল হয় তাহলে কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যাবে। তাই আমার মতে, প্রোপোজালের প্রথম প্যারার পরেই আপনার কাজের Sample যোগ করার চেষ্টা করুন।

4. আপনাকে-ই কেন জবে হায়ার করা উচিত তা বোঝানোর চেষ্টা করুন:
প্রত্যেকটা ক্লায়েন্ট-ই কিন্তু তার কাজের জন্য উপযুক্ত কাউকে খুজে পেতে চায়। যে কিনা, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এবং সফলতার সাথে তার কাজটি শেষ করতে পারবে।

তবে এমন ভাবে লিখবেন না “ You Should Hire Me Because,……” শুধু এটা উল্লেখ করুন যে, আপনার সাথে কাজ করার কি কি সুবিধা থাকতে পারে এবং আপনার কাজের গুনগত মান কেমন ও তা কত ভাল ফলাফল আনতে পারে তার জন্য। আবার মিথ্যা কথা লিখবেন না, সত্য কথাই লিখুন। কয়েকটি উদাহরণ দেখুন:

>> আপনার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে লিখুন ( কত বছর ধরে কাজ করছেন)
>> আপনার যদি ভাল ফিডব্যাক থাকে (আপওয়ার্ক বা এর বাইরে) তাহলে সেটা উল্লেখ করুন।
>> প্রয়োজন হলে আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতাও বলুন।
>> আপওয়ার্কে স্কিল টেষ্ট এর রেজাল্ট যদি ভাল হয় তাহলে সেটাও শেয়ার করুন।

5. পেশাগত ও বন্ধুত্বপূর্ণ আচরন করুন:
একবার নিজেকে ক্লায়েন্ট এর জায়গায় চিন্তা করে দেখেনতো?

“আমি অনেক সময় আমার নিজের প্রজেক্টের কিছু কাজ (কোডিং রিলেটেড) করানোর জন্য Fiverr থেকে ফ্রিল্যান্সার হায়ার করে থাকি। এবং তাদের যে, রিপ্লাই গুলো সতর্কতার সাথে লক্ষ করি, এবং যে সকল ফ্রিল্যান্সার তার মেসেজে এ রিপ্লাই এর ব্যাপারে বন্ধুত্বপূর্ণ ও পেশাগত আচরন না করে তাদের কে কখনো-ই আমার কাজের জন্য হায়ার করি না। “

তাই একজন ফ্রিল্যান্সারকে অবশ্যই তাদের পেশাগত আচরণের দিকে লক্ষ রাখতে হবে।

জবে বিড করার শুরু ও শেষের দিকে যে সকল শব্দ/বাক্য ব্যাবহার করা হয় তার দিকে খেয়াল রাখতে হবে।
যেমন শুরুতে, Hi clinet name, Dear client name, Hi there ইত্যাদি এবং শেষের দিকে: “Thank you for taking the time to read my proposal”, “Best Regards” or “Kind wishes” লিখে শেষ করা উচিত।

অবশেষে প্রোপোজাল সাবমিট করার পূর্বে অবশ্যই ভাল ভাবে চেক করে নিয়ে তারপর সাবমিট বাটনে ক্লিক করবেন।

আরেকটি কথা, প্রথম কয়েক মাস নতুন ফ্রিল্যান্সারদের জন্য একটু ঝামেলা হতে পারে কিন্তু আপনি যদি ধর্য্য ধরে লেগে থাকতে পারেন এবং আপনি নিজেকে যোগ্য প্রমান করতে পারেন তাহলে অবশ্যই আপনি দীর্ঘদিন কাজ করতে পারবেন এবং ভাল পরিমান অর্থ উপার্জন করতে পারবেন।

 Upwork ও Fiverr এর বিভিন্ন টিপস্ ট্রিকস নিয়ে ধারাবাহিক পোষ্ট ও ভিডিও পেতে ফেসবুকের এই Group এ জয়েন করতে পারেন। আশা করছি আপনাকে ফ্রিল্যান্সিং এ সফল হতে কিছুটা হলেও সাহায্য করতে পারবো। Group এ জয়েন করতে এখানে ক্লিক করুন।

 

পরবর্তী পোষ্ট:  ফ্রিল্যান্স টু সাকসেস (পর্ব: 02- Proven Method to Get the First Job At Upwork)  Coming Soon!

ধন্যবাদ,
সমীর চন্দ্র হালদার
CEO আইটি কোচ বিডি


About সমীর চন্দ্র হালদার

সমীর চন্দ্র হালদার
ইমেইল মার্কেটিং এর মাধ্যেমে ফ্রিল্যান্সিং এ ক্যারিয়ার শুরু করা সমীর চন্দ্র হালদার বর্তমানে কাজ করছেন অনলাইন মার্কেটিং এর বেশ কয়েকটি শাখায়। নিজের দক্ষতা বাড়তে ট্রেনিং করেছেন নামকরা অনলাইন মার্কেটার Alex Jeffreys এর কাছে। বর্তমানে Upwork ও Fiverr এ ক্লায়েন্টের কাজ করার পাশাপাশি JvZoo এবং WarriorPlus এ রয়েছে নিজের প্রডাক্ট। এছাড়াও নিয়মিত কাজ করছেন Orville Robertson, Firas Alameh, Keith Burgess এবং Kevin Myles এর মত বড় বড় অনলাইন মার্কেটারদের প্রজেক্টে।

Check Also

balancing-freelancing-and-job

ফ্রিল্যান্সিংয়ে সফলতার ৪০ টিপস

সময়ের জনপ্রিয় পেশা ফ্রিল্যান্স আউটসোর্সিং। তবে ফ্রিল্যান্সিংয়ে সফলতার ক্ষেত্রে বেশ কিছু বিষয় কাজ করে, বেশ …