ipo

পাইপলাইনে ১০ কোম্পানির আইপিও


প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে পুঁজিবাজারে আসতে আগ্রহী ১০টি কোম্পানি। ইতোমধ্যে কোম্পানিগুলো নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) আবেদনপত্র জমা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বিএসইসিতে আবেদন করা কোম্পানিগুলো হলো- এসটিএস হোল্ডিংস লিমিটেড (অ্যাপোলো হাসপাতাল), আমরা নেটওয়ার্কস, ঢাকা রিজেন্সি হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট লিমিটেড, প্যাসিফিক ডেনিমস লিমিটেড, ফরচুন সু লিমিটেড, ইফকো গার্মেন্টস অ্যান্ড টেক্সটাইল লিমিটেড, হ্যামপ্যাল রি ম্যানুফেকশ্চারিং বাংলাদেশ লিমিটেড, মারহাবা স্পিনিং, ভিএফএস থ্রেড ডায়িং লিমিটেড এবং শেফার্ড টেক্সটাইলস মিলস লিমিটেড।

এর মধ্যে প্রথম তিনটি কোম্পানি বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে বাজারে আসতে চায়। বাকী কোম্পানিগুলো অভিহিত মূল্যে বাজারে আসবে।

অভিহিত মূল্য ৭৫ কোটি টাকা তুলতে চায় প্যাসিফিক ডেনিমস্ লিমিটেড, ফরচুন সু লিমিটেড ২২ কোটি টাকা, ইফকো গার্মেন্টস অ্যান্ড টেক্সটাইল লিমিটেড ২০ কোটি টাকা, হ্যামপ্যাল রিম্যানুফেক্সারিং বাংলাদেশ লিমিটেড ২০ কোটি টাকা, মারহাবা স্পিনিং ৫০ কোটি টাকা, ভিএফএস থ্রেড ডায়িং লিমিটেড ২২ কোটি টাকা এবং শেফার্ড টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড তুলতে চায় ২০ কোটি টাকা।

এ বিষয়ে সিটিজেন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তাহিদ আহমেদ চৌধুরী বলেন, আমরা বিএসইসিতে ৩টি আইপিও’ প্রসপেক্টাস জমা দিয়েছি। কমিশনের অনুমোদন পেলে কোম্পানিগুলো বাজার থেকে মূলধন সংগ্রহ করতে পারবে।

এদিকে, বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে বাজারে আসার জন্য ইতোমধ্যে তিনটি কোম্পানিই রোড শো করেছে। এরপর বিএসইসিতে আবেদন জমা দিয়েছে কোম্পানিগুলো।

এর মধ্যে অ্যাপোলো হাসপাতালের স্বত্ত্বাধিকারী এসটিএস হোল্ডিংস লিমিটেড ৭৫ কোটি টাকা, আমরা নেটওয়ার্কস লিমিটেড ৫৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা এবং ৬০ কোটি টাকা সংগ্রহ করতে চায় ঢাকা রিজেন্সি হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট লিমিটেড।

উল্লেখ্য, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণে শেয়ার বিক্রির দর নির্ধারণ করা হবে। আর এর উপর ভিত্তি করে কোম্পানিগুলো ঠিক করবে কী পরিমাণ শেয়ার বাজারে ছাড়বে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে যে দামে শেয়ার বিক্রি করা শেষ হবে সেই দামে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা শেয়ার কেনার জন্য আবেদন করতে পারবেন।

মোট শেয়ারের ৫০ শতাংশ সংরক্ষিত থাকবে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য থাকবে ৩০ শতাংশ শেয়ার। বাকী শেয়ার থেকে ১০ শতাংশ করে পাবে মিউচুয়াল ফান্ড ও অনিবাসী বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীরা।

প্রসপেক্টাসের তথ্য অনুসারে, ৩১ ডিসেম্বর ২০১৫ তারিখে সমাপ্ত হিসাববছরে এসটিএস হোল্ডিংস তথা অ্যাপোলো হাসপাতালের শেয়ার প্রতি আয় বা ইপিএস হয় ২ টাকা ৪৯ পয়সা। আগের বছর ইপিএস ছিল ২ টাকা ২২ পয়সা।

এদিকে, উত্তোলিত অর্থ থেকে ১২ কোটি ৩৮ লাখ ৬১ হাজার ৫৮৫ টাকা ব্যয় হবে ঋণ পরিশোধ করবে আমরা নেটওয়ার্কস। কোম্পানির অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য (বিএমআরই) ব্যয় করা হবে ১৫ কোটি ৫২ লাখ ২ হাজার ৫০০ টাকা। কোম্পানিটি ১৩ কোটি ৮০ লাখ ৮৭ হাজার ৬৪৪ টাকা ব্যয় করে , ডাটা সেন্টার স্থাপন করবে। আর বিভিন্ন জায়গায় ওয়াইফাই হটস্পট স্থাপনের জন্য যাবে ১৪ কোটি ৫৩ লাখ ৪৮ হাজার ২৭১ টাকা।

আমরা নেটওয়ার্কসের অনুমোদিত মূলধন ১০০ কোটি টাকা। আর পরিশোধিত মূলধন ৩৮ কোটি টাকা। ৩১ ডিসেম্বর ২০১৫ সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানির শেয়ার প্রতি আয় বা ইপিএস হয়েছে ৩ টাকা ১৬ পয়সা। যা এর আগের বছর ছিল ৩ টাকা ২৬ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর কোম্পানির শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য বা এনএভি ছিল ২১ টাকা ৯৮ পয়সা। এর আগের বছর এনএভি ছিল ১৬ টাকা ৭৭ পয়সা।

এদিকে, ৬০ কোটি টাকা সংগ্রহ করতে চায় ঢাকা রিজেন্সি হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট লিমিটেড। পুঁজিবাজার থেকে সংগ্রহ করা অর্থের একটি অংশ দিয়ে কক্সবাজারে একটি ফোর স্টার হোটেল নির্মাণ করবে ঢাকা রিজেন্সি। আরেকটি অংশ ব্যয় করা হবে বিদ্যামান হোটেলের আধুনিকায়ন ও ঋণ পরিশোধে।

কোম্পানির তথ্য কণিকা থেকে জানা যায়, আইপিওতে উত্তোলিত অর্থ থেকে ২০ কোটি টাকা ব্যয় হবে ঋণ পরিশোধে। কোম্পানির বিদ্যমান পণ্য ও সেবার আধুনিকরণে ব্যয় করা হবে ১০ কোটি টাকা। কক্সবাজারে হোটেল নির্মাণে ব্যয় করা হবে ২৭ কোটি টাকা। আর আইপিও বাবদ খরচ করা হবে ৩ কোটি টাকা।

কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ৬০ কোটি টাকা। ৩১ ডিসেম্বর ২০১৫ সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ২ টাকা ৪২ পয়সা। তবে আগের বছর এই ইপিএস ছিল ৩ টাকা ১১ পয়সা। আলোচিত বছরে কর পরবর্তী মুনাফা ছিল ১৪ কোটি ৫১ লাখ ৯০ হাজার ২৫৬ টাকা। যা এর আগের বছরে ছিল ১৮ কোটি ৬৫ লাখ ৭৬ হাজার ৯০৪ টাকা। ৩১ ডিসেম্বর ২০১৫ তারিখে কোম্পানির শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য (এনএভি) ছিল ৩১ টাকা ৩৫ পয়সা।


About সমীর চন্দ্র হালদার

সমীর চন্দ্র হালদার
ইমেইল মার্কেটিং এর মাধ্যেমে ফ্রিল্যান্সিং এ ক্যারিয়ার শুরু করা সমীর চন্দ্র হালদার বর্তমানে কাজ করছেন অনলাইন মার্কেটিং এর বেশ কয়েকটি শাখায়। নিজের দক্ষতা বাড়তে ট্রেনিং করেছেন নামকরা অনলাইন মার্কেটার Alex Jeffreys এর কাছে। বর্তমানে Upwork ও Fiverr এ ক্লায়েন্টের কাজ করার পাশাপাশি JvZoo এবং WarriorPlus এ রয়েছে নিজের প্রডাক্ট। এছাড়াও নিয়মিত কাজ করছেন Orville Robertson, Firas Alameh, Keith Burgess এবং Kevin Myles এর মত বড় বড় অনলাইন মার্কেটারদের প্রজেক্টে।